Palah Biswas On Unique Identity No1.mpg

Unique Identity No2

Please send the LINK to your Addresslist and send me every update, event, development,documents and FEEDBACK . just mail to palashbiswaskl@gmail.com

Website templates

Zia clarifies his timing of declaration of independence

what mujib said

Jyothi Basu Is Dead

Unflinching Left firm on nuke deal

Jyoti Basu's Address on the Lok Sabha Elections 2009

Basu expresses shock over poll debacle

Jyoti Basu: The Pragmatist

Dr.BR Ambedkar

Memories of Another day

Memories of Another day
While my Parents Pulin Babu and basanti Devi were living

"The Day India Burned"--A Documentary On Partition Part-1/9

Partition

Partition of India - refugees displaced by the partition

Saturday, April 27, 2013

আগ্নেয়গিরির উপর বাংলা!সারদার প্রতারণার অ আ ক খ - বিশেষ রিপোর্ট,সারদাকে কোম্পানি বেচতে প্রভাবিত করেছিলেন শুভাপ্রসন্ন!নয়া আইনে সুদীপ্তর সাজা নিয়ে সংশয়

সারদার প্রতারণার অ আ ক খ - বিশেষ রিপোর্ট

সারদার চিটফান্ডে টাকা রেখে সর্বস্ব খুইয়ে আত্মঘাতী হলেন এক আমানতকারী। পুরুলিয়ার বলরামপুরের হাটতলার বাসিন্দা ওই আমানতকারীর নাম তপন কুমার বিশ্বাস। পেশায় চাঁদনি চিকিত্‍সক তপনবাবু সারদা গোষ্ঠীতে প্রায় দুলক্ষ টাকা আমানত করেছিলেন বলে দাবি পরিবারের। গত কয়েকদিন মানসিক অবসাদে বি পরিবারের। গত কয়েকদিন মানসিক অবসাদে 



শুধু সারদা গোষ্ঠী নয়, জেলায় জেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে চিট ফান্ড। এবার ২২ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠল বারুইপুরের এক সংস্থার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। 

শুক্রবার রাতে ভট্টাচার্যপাড়ার বিবিতলাতে প্রদীপ সর্দার নামে ওই কর্মকর্তার বাড়িতে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় কয়েকজন আমানতকারী। তাঁদের অভিযোগ, বেশ কিছু দিন ধরেই এলাকায় ব্যবসা চালাচ্ছে ত্রিভুবন নামে ওই সংস্থাটি। অভিযোগ, গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ২২ কোটি টাকা তোলার পর সম্প্রতি চম্পট দেন চিট ফান্ডের কর্মকর্তা প্রদীপ সর্দার। শুক্রবার রাতে প্রদীপ সর্দারের বাড়ি ঘেরাও করে ভাঙচুর চালায় আমানতকারীরা। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বারুইপুর থানার পুলিস।.


কলকাতা: চিট ফান্ডের রমরমা রুখতে তৈরি নয়া বিলের খসড়া রাজ্যপাল এম কে নারায়ণনকে দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বাম আমলে তৈরি এ সংক্রান্ত বিলটি বৃহস্পতিবার রাজ্যকে ফেরত পাঠায় কেন্দ্র৷ শুক্রবার সেই বিল রাজভবন থেকে মহাকরণে পৌঁছয়৷ মুখমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভুঁইফোড় সংস্থাগুলির রমরমা রুখতে দ্রুত নতুন আইন চায় রাজ্য সরকার৷ সেই কারণেই পুরনো বিলটি ফেরত আসতেই নতুন বিলের খসড়া রাজ্যপালের কাছে নিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী৷ শুক্রবার দুপুর ২টো নাগাদ রাজভবনে যান তিনি৷ তাঁর সঙ্গে ছিলেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র, আইনমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং মুখ্যসচিব সঞ্জয় মিত্র৷ বৈঠক চলে প্রায় আধঘণ্টা৷ সূত্রের খবর, নতুন বিলের খসড়া নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে রাজ্যপালের সঙ্গে কথা হয় মুখ্যমন্ত্রীর৷ এদিকে, এদিন চিট ফান্ডকাণ্ডে সর্বস্বান্ত আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার পক্ষে জোর সওয়াল করেন রাজ্যপাল৷ তিনি বলেন, সারদাকাণ্ডে অনেকেই তদন্ত করছে৷ কিন্তু প্রথমে প্রতারিত আমানতকারীদের কিছু টাকা ফেরানোর ব্যবস্থা করা দরকার৷ 
জানা গিয়েছে, রাজভবনে যাওয়ার আগেও এদিন মহাকরণে আইনমন্ত্রী, মুখ্যসচিব ও অর্থসচিবের সঙ্গে একপ্রস্থ বৈঠক সারেন মুখ্যমন্ত্রী৷ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যপাল ছুটিতে চলে যাবেন৷ তাই তাঁকে নতুন বিলের খসড়া দেখানো জরুরি৷ বিলটি পাস করানোর জন্য ইতিমধ্যেই দুদিনের বিধানসভা অধিবেশন ডাকা হয়েছে৷ 

http://www.abpananda.newsbullet.in/kolkata/59-more/36078-2013-04-26-12-48-24

আগ্নেয়গিরির উপর বাংলা
এই সময়: ভিসুভিয়াসের একটি মাত্র মুখ থেকে লাভা উদ্গিরণ হয়েছে এ পর্যন্ত৷ বাকি মুখগুলি খুলে গেলে তার পরিণতি যে ভয়াবহ হবে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই৷ সারদা-বুদ্বুদ ফেটে যাওয়ার পরে সার্বিক বিচারে এই আশঙ্কার সম্ভাবনাটাই উঠে এসেছে সবার উপরে৷ 

হঠাত্‍ পথে বসে যাওয়া সারদার এজেন্ট বা আমানতকারীরাই যে শুধু অনিশ্চয়তার অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছেন তা নয়৷ রাজ্যে ছোট-বড়-মাঝারি মিলিয়ে যে শয়ে শয়ে অনুরূপ সংস্থা আছে তাদের অবস্থাটাও তথৈবচ৷ অবিলম্বে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য এই সব সংস্থার মালিক ও এজেন্টদের উপর চাপ বাড়ছে৷ যাদের ক্ষমতা আছে, সেই সব সংস্থা কোথাও কোথাও কিছু কিছু করে টাকা মেটানোর চেষ্টা করলেও বেশিরভাগই তা পারছে না৷ ফলে ভয়ে ও আতঙ্কে সেই সব সংস্থার অনেকে ঝাঁপ বন্ধ করে দিয়ে হয় আত্মগোপন করছেন নয় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন৷ শুধু কলকাতা শহরে নয়, বাংলার জেলায় জেলায় প্রায় মহামারির বেগে ছড়াচ্ছে এই আতঙ্ক৷ 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ছোট সংস্থার এক আতঙ্কগ্রস্ত মালিক বললেন, 'সব আমানতকারী যদি একসঙ্গে টাকা ফেরত চান তা হলে কি কারও পক্ষে সে কাজ করা সম্ভব? কোনও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সব আমানতকারী যদি এ কাজ করেন তা হলে কি সেই ব্যাঙ্কও একসঙ্গে টাকা মেটাতে পারবে? কিন্তু মুশকিল হল, এখন আমাদের কথা কেউ শুনছে না৷ কার কাছে গেলে প্রতিকার পাওয়া যায়, সেটাও আমরা বুঝতে পারছি না৷' 

পশ্চিমবঙ্গে সারদার মতো সংস্থার সঠিক সংখ্যাটা কত, কারও কাছে তার হিসেব নেই৷ রাজ্য সরকারের কাছে নেই, সেবির কাছেও নেই৷ দীর্ঘ দিন ধরে এই কারবার যাঁরা করে আসছেন তাঁরাও এ ব্যাপারে সঠিক হদিস দিতে পারেন না৷ তার একটা কারণ, কলকাতায় বসে সামান্য কয়েকটি নাম শোনা গেলেও এই রকম ছোট ছোট কয়েকশো সংস্থা গোটা বাংলা জুড়ে ছড়িয়ে আছে যাদের আমানতের পরিমাণ তুলনামূলক ভাবে কম৷ সব মিলিয়ে এই সব সংস্থায় জমে থাকা আমানতের পরিমাণ কত কেউ তা জানে না৷ এ ব্যাপারে যে-সব অঙ্ক হাওয়ায় ওড়ে তা নেহাতই জল্পনা৷ তবে অঙ্কটা যে দশ হাজার কোটি টাকার কম নয় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলেই একমত৷ 

রাজ্যের অন্তত এক কোটি আমানতকারী এই রকম কোনও না কোনও সংস্থায় টাকা রেখেছেন৷ তাঁদের কাছ থেকে এই টাকা সংগ্রহ করেছেন যে-সব এজেন্ট, তাঁদের সংখ্যাটা সামান্য কম-বেশি তিরিশ লাখ৷ তার অর্থ রাজ্যের জনসংখ্যার প্রতি দশ জনের মধ্যে প্রায় দু'জন এই ধরনের কারবারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ভাবে যুক্ত৷ এর সঙ্গে যদি এঁদের পরিবারের লোকজনের সংখ্যাটা যোগ করা হয় তা হলে চিত্রটা দাঁড়ায় আরও ভয়াবহ৷ প্রতি দশ জনের মধ্যে পাঁচ জনই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে তাঁদের জীবন ধারণের জন্য এই ধরনের কারবারের উপর নির্ভরশীল৷ গোটা ব্যবস্থাটায় হঠাত্‍ ধস নামলে এই বিপুল সংখ্যক মানুষ চড়ান্ত অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়ে যাবেন৷ তাতে তৈরি হবে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি৷ 

অচিরেই তেমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না একটাই কারণে৷ সেটা হল, সারদা কেলেঙ্কারি নিয়ে দেশজোড়া আতঙ্কের আবহে টাকা জমা রাখতে নতুন আমানতকারীরা আর এগিয়ে আসছেন না৷ ফলে সংস্থাগুলির দৈনন্দিন 'কালেকশন' কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ ভয়ে এজেন্টরাও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন রাতারাতি৷ এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত লোকেদের বক্তব্য হল, এই প্রবণতা চলতে থাকলে আজ না হয় কাল ধস নামতে বাধ্য৷
কেননা রামের জমা আমানত থেকে শ্যামের আমানত ফিরিয়ে দেওয়াই এই ব্যবসার একমাত্র চালিকাশক্তি৷ অতএব নতুন আমানত না-আসা মানে পুরোনো আমানত ফেরত দেওয়ার ক্ষমতা একেবারেই সঙ্কুচিত হয়ে যাওয়া৷ যে-সব কোম্পানি পিঠ বাঁচাতে এখন নিজেদের 'অ্যাসেট-বেসড' সংস্থা বলে দাবি করছে, জমা থাকা আমানত সুদ সমেত ফিরিয়ে দেওয়ার মতো ক্ষমতা তাদের নেই৷ যাদের কিছু সম্পত্তি আছে তুলনায় তারা একটু সুবিধেজনক অবস্থায় থাকলেও অধিকাংশ কোম্পানিরই উল্লেখযোগ্য সম্পত্তি নেই, যা দিয়ে বকেয়া আমানতের কিছুটাও শোধ দেওয়া যায়৷ এই ব্যবসার যা কমিশন কাঠামো, তাতে আমানতের মাত্র ষাট শতাংশ কোম্পানির ঘরে আসে৷ তার মধ্যে তিরিশ-চল্লিশ শতাংশ কর্মীর বেতন, প্রশাসনিক খরচ, রাজনীতিকদের তোলা এবং বিজ্ঞাপনেই খরচ হয়ে যায়৷ তার মানে একশো টাকার আমানতের মধ্যে কুড়ি-পঁচিশ টাকার বেশি সংস্থার মালিক সম্পদ তৈরি বা অন্য ব্যবসা সৃষ্টিতে ব্যয় করতেও পারেন না৷ সারদার মালিকের মতো বিভিন্ন সংস্থার মালিক খ্যাতি, প্রতিপত্তি এবং গ্ল্যামার জগতের সঙ্গে গা ঘেঁষাঘেঁষি করার লোভে মিডিয়ায় এবং টালিগঞ্জের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে লোকসানের ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন৷ অতএব নতুন আমানত বন্ধ হয়ে এরা সবাই মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য৷ কেউ আগে, কেউ পড়ে এই যা৷ 

এই সব সংস্থার কর্মীদের অভিযোগ, পরিস্থিতির ভয়াবহতার এই দিকটির দিকে কারও নজর নেই৷ নতুন আইন এনে ভবিষ্যতে এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব কি না, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন এখন এক কোটি আমানতকারী এবং তিরিশ লাখ এজেন্টের আশু নিরাপত্তা ও ভবিষ্যত্‍৷ অচিরে সেটা যদি বিপন্ন হয়ে ওঠে তা হলে তার সামাজিক, আর্থিক এবং রাজনৈতিক পরিণতি হবে ভয়াবহ৷ সার্বিক নৈরাজ্যের দিকে ঢলে পড়তে পারে পশ্চিমবঙ্গ৷ 

নয়া আইনে সুদীপ্তর সাজা নিয়ে সংশয়

এই সময়: ভুয়ো লগ্নি সংস্থায় লাগাম টানতে ৩০ এপ্রিল নতুন বিল পেশ করতে চলেছে রাজ্য সরকার৷ এ জন্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকা হচ্ছে৷ আগের দিন অধিবেশনের সূচনা হবে৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে৷ সিপিএম আগেই অভিযোগ তুলেছিল, সারদা গোষ্ঠীকে বাঁচাতেই নতুন বিল আনা হচ্ছে৷ ক্ষমতায় থাকাকালীন, ২০০৯ সালে তারা যে বিল এনেছিল, তা দিয়েই এই সব লগ্নি সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেত৷ অন্য দিকে সরকার পক্ষের বক্তব্য, এই ধরনের সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করতেই নতুন বিল আনা হচ্ছে৷ 

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের খবর, সারদা গোষ্ঠীর মতো বেআইনি লগ্নি সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিপিএমকেও এই ইস্যুতে টেক্কা দিতে চান৷ সেই কারণে নতুন বিলে সরকারি ক্ষমতাবলে সরাসরি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধান রাখা হচ্ছে৷ বাম জমানার বিলে সম্পত্তির দখল করে তার পর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী চলার কথা বলা হয়েছিল৷ সে ক্ষেত্রে সম্পত্তি বেচে আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর বিষয়টি নির্ভর করত আদালতের রায়ের উপর৷ এ ছাড়া এ ধরনের সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশেষ আদালত চালু করার সংস্থান থাকছে নতুন আইনে৷ শুক্রবার বিধানসভায় সর্বদলীয় বৈঠকে এই নতুন বিল আনার কথা জানান পরিষদীয়মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ 

রাজ্য সরকার যে বিল পেশ করতে চলেছে তার নাম হচ্ছে, 'দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রোটেকশন অফ ইন্টারেস্ট অফ ডিপোজিটরস ইন ফিনান্সিয়াল এস্টাব্লিসমেন্টস বিল, ২০১৩'৷ আগের সরকারের আনা বিলের সঙ্গে নতুন বিলের নামের কার্যত ফারাক নেই৷ 

কিন্তু নতুন আইনে কি সারদা গোষ্ঠীর কর্ণধার সুদীপ্ত সেন-সহ বর্তমানে চালু ভুয়ো লগ্নি সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব? এই প্রশ্নকে ঘিরেই এখন নয়া বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে৷ আইনজ্ঞ এবং প্রশাসনিক মহলের একাংশের বক্তব্য, রাজ্য সরকার যে আইন করতে চলেছে তাতে বর্তমান লগ্নি সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়৷ শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় অবশ্য দাবি করেছেন, যে আইন তাঁরা করতে চলেছেন তাতে বর্তমানে চালু সব সংস্থার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া যাবে৷ আইনে সেই সংস্থান থাকছে৷ তিনি আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে যে-সব মামলা চলছে সেগুলিরও বিচার হবে নতুন আইনে৷ সরকারের এই বক্তব্যে তীব্র আপত্তি তুলেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী তথা কংগ্রেস নেতা অরুণাভ ঘোষ৷ 
সংবিধানের ২০(১) নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইন কখনও সংবিধানের ঊর্ধ্বে উঠতে পারে না৷ সংবিধানের ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আজকের কোনও ফৌজদারি অপরাধের বিচার আগামী দিনে আনা কোনও আইনে হতে পারে না৷ তাঁর বক্তব্য, এক্ষেত্রে অপরাধীর তরফে যুক্তি হল, সাজা বেশি জানলে সে অপরাধটাই করত না৷ দৃষ্টান্ত দিয়ে তিনি বলেন, টাডা আইন তৈরির পর যে দিন থেকে সেটি কার্যকর হয়েছে কেবলমাত্র তার পরে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রেই ওই আইনে বিচার হয়েছে৷ তাঁর আশঙ্কা, রাজ্য সরকার যতই কঠোর আইনই করুক না কেন, সে আইনে বর্তমানে অপরাধী আর্থিক সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে না৷ ফলে এত কাণ্ড সত্ত্বেও সুদীপ্ত সেনরা পার পেয়ে যাবেন৷ তিনি তাই সরকারের সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন৷ আইনজ্ঞদের একাংশ এই প্রসঙ্গে দিল্লির ধর্ষণ-কাণ্ডে অভিযুক্তদের সাজার বিষয়টিও তুলে ধরছেন৷ তাঁদের বক্তব্য, ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচার চলছে চলতি ফৌজদারি দণ্ডবিধি অনুযায়ী, নতুন আইন অনুযায়ী নয়৷ তাতে ধর্ষণের সাজা হল দশ বছর জেল৷ যদিও ওই ঘটনার পর ফৌজদারি দণ্ডবিধি সংশোধন করে সাজার মেয়াদ করা হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড৷ 

বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র এবং প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্ত আগেই অভিযোগ তুলেছিলেন সরকার আদৌ সুদীপ্ত সেনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আগ্রহী নয়৷ সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা আনিসুর রহমান সর্বদলীয় বৈঠক শেষে বলেন, সরকার যা করছে তা লোক দেখানো৷ নতুন আইনে সারদার মতো সংস্থাগুলির গায়ে হাত পড়বে না৷ রাজ্য সরকার অবশ্য সমালোচনায় দমছে না৷ আইন করার লক্ষ্যে দ্রুত বিল আনতে শুক্রবার মহাকরণে দফায় দফায় বৈঠক চলে৷ 

বৃহস্পতিবারই রাষ্ট্রপতির অফিস থেকে বাম জমানায় পাঠানো ২০০৯ সালের বিলটি রাজ্যের কাছে ফেরত পাঠানো হয়৷ ওই দিন রাত থেকেই শুরু হয়ে যায় নতুন বিল তৈরির কাজ৷ রাতভর অফিসাররা বিলের খসড়া তৈরি করেন৷ এ দিন দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিলের কপি নিয়ে রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল এমকে নারায়ণনের সঙ্গে দেখা করে তাঁর হাতে বিলের কপি তুলে দেন৷ দুপুরেই রাজ্যপাল বিলে সম্মতি দেন৷ সন্ধ্যায় তিনি নিউ ইয়র্ক রওনা হয়ে গিয়েছেন৷ ফিরবেন ৫ মে৷ সেই কারণে মুখ্যমন্ত্রী এ দিনই রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন৷ মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিল পাশ হওয়া মাত্র তা কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হবে৷ বিলে কেন্দ্রের অনুমোদন আদায় করতে অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র এবং মুখ্যসচিব সঞ্জয় মিত্র দিল্লি যাবেন৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সঞ্চয়িতার বেআইনি কারবার ফাঁস হওয়ার পর তখনই আগের সরকার আইন করলে এত মানুষ বিপাকে পড়তেন না৷ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, 'আমরা যে আইন করতে চলেছি তাতে যারা প্রতারণা করবে তাদের সম্পত্তি ক্রোক করার অধিকার সরকারের থাকবে৷' তাঁর দাবি, সারদা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর সরকার ওই সংস্থার বেআইনি কারবারের কথা জানতে পারে৷ 

ভুঁইফোঁড় অর্থলগ্নি সংস্থা নিয়ন্ত্রণে নতুন বিলে পূর্বপ্রয়োগ বা রেট্রোস্পেক্টিভের সংস্থান রাখল রাজ্য সরকার৷ বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে, এর জেরে নতুন আইনের আওতায় সারদাকাণ্ডও পড়বে৷


বাম আমলে পাশ-হওয়া বিল প্রত্যাহার করে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে আগামী মঙ্গলবার নতুন বিল পেশ করবে সরকার৷ শনিবার, বিলের খসড়া তুলে দেওয়া হয় সব দলের বিধায়কদের হাতে৷ বামেদের আনা বিলে অভিযুক্ত ভুঁইফোঁড় সংস্থাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল পুলিশ কমিশনার ও জেলাশাসকদের হাতে৷ 
নতুন বিলের খসড়ায় মূলত তিনটি নতুন বিষয় সংযোজিত হয়েছে৷বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডিরেক্টরেট অফ ইকনমিক অফেন্স-এর হাতে৷ আর্থিক অপরাধের অভিযোগ পেলে, ডিরেক্টরেট যে কোনও সংস্থার অফিসে গিয়ে তল্লাসি শুরু করে দিতে পারবে৷ অভিযুক্ত সংস্থার নথি বাজেয়াপ্ত করতে পারবে ডিরেক্টরেট৷ প্রয়োজনে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা বিক্রিও করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডিরেক্টরেটকে৷ 
চিটফান্ড কাণ্ডের তদন্তে ইতিমধ্যেই শ্যামল সেনের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করেছে রাজ্য সরকার৷ মঙ্গলবার বিধানসভায় পেশ হতে চলা নতুন বিলের খসড়ায় বলা হয়েছে, শ্যামল সেন কমিশনের রিপোর্ট সরকার গ্রহণ করলে চলতি আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে সরকার৷
বিলে পূর্বপ্রয়োগের সংস্থান রাখা হলেও তা আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মত সিপিএম বিধায়ক আনিসুর রহমানের৷সিপিএমের অভিযোগ, নতুন বিল এনে আসলে সারদা-কাণ্ডকেই আড়াল করতে চাইছে রাজ্য সরকার। 
বিলে পূর্বপ্রয়োগের সংস্থান রাখাকে স্বাগত জানালেও নতুন বিল নিয়ে আসায় দোষীদের শাস্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হবে বলে মত মানস ভুঁইয়ার৷ চিট ফান্ডের রমরমার জন্য এদিন ফের সিপিএমকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করান পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ 
বিতর্ককে সঙ্গী করেই মঙ্গলবার বিধানসভায় পেশ হবে নতুন বিল, দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রোটেকশন অফ ইন্টারেস্ট অফ ডিপোজিটর্স ইন ফিনান্সিয়াল এস্টাব্লিশমেন্ট্স বিল, ২০১৩৷  

http://eisamay.indiatimes.com/will-the-new-law-make-escape-route-for-sudipto/articleshow/19751243.cms


ভুঁইফোঁড় অর্থলগ্নি সংস্থার আমানতকারীদের স্বার্থরক্ষার্থে নতুন আইন আনতে চলেছে রাজ্য সরকার৷ আগামী মঙ্গলবার ভুঁইফোঁড় অর্থলগ্নি সংস্থা নিয়ন্ত্রণে নতুন বিল (দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রোটেকশন অফ ইন্টারেস্ট অফ ডিপোজিটর্স ইন ফিনান্সিয়াল এস্টাব্লিশমেন্ট্স বিল, ২০১৩) আনছে রাজ্য সরকার। যে দিন বিল বিধানসভায় পাশ হবে রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেলে তা কার্যকর হবে সেই দিন থেকে৷।কিন্তু সারদা-মামলা রুজু হয়েছে তার আগেই৷ ফলে সারদা-মামলা নতুন আইনের আওতায় আসবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা৷ বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, বিলে রেট্রোস্পেকটিভ এফেক্ট (পূর্বপ্রয়োগ)দিলেই সারদা কাণ্ড নতুন আইনের আওতায় আসবে৷


যদিও, এমনটা মানতে নারাজ বিধানসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ হাসিম আব্দুল হালিম ও লোকসভার প্রাক্তন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়৷ হালিমের যুক্তি, "নতুন কোনও আইনে পুরনো ফৌজদারি অপরাধের বিচার করা যায় না। সেটা সংবিধান এবং ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির বিরোধী।" প্রাক্তন স্পিকার জানাচ্ছেন, বিধানসভায় এর আগে জমি সংক্রান্ত একটি বিলে পূর্বপ্রয়োগের সংস্থান রাখা হয়েছিল। কিন্তু আর্থিক জালিয়াতির মতো ফৌজদারি অপরাধে যথেচ্ছ পূর্বপ্রয়োগ ('ব্ল্যাঙ্কেট রেট্রোস্পেকটিভ') সম্ভব নয়।
বিলে রেট্রোস্পেকটিভ এফেক্ট রাখা হলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মত সিপিএম বিধায়ক আনিসুর রহমানের৷ তিনি বলেছেন, "এই বিল আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়ে যেতে পারে। তাতে আরও দেরি হবে এবং সারদারই স্বার্থরক্ষা হবে!"
আইনজীবীদের একাংশের মতে,রেট্রোস্পেকটিভ এফেক্ট দিয়ে আইন পাশ করার ক্ষমতা সমস্ত আইনসভার রয়েছে৷ এটা সংবিধান স্বীকৃত৷ কিন্তু অপরাধের সংজ্ঞা বদলের এবং কোনও একটি নির্দিষ্ট অপরাধের শাস্তির মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে, আগের আইনের চেয়ে যদি কোনও কড়া আইন প্রণয়ন করা হয়, তাহলে রেট্রোস্পেকটিভ এফেক্ট দিয়ে তা কার্যকরের মেয়াদ, আইন পাশের দিনের আগে থেকে করা সম্ভব নয়৷
আইনজীবীদের বক্তব্যের সমর্থন মিলছে সংবিধানের ২০ নম্বর ধারার ১ নম্বর উপধারায়৷ তাতে বলা হয়েছে, কোনও অপরাধ করার সময় যে আইন অনুযায়ী সেটা অপরাধ হিসাবে গণ্য, সেই আইনের পরে কার্যকর হওয়া, অন্য কোনও আইনে সেই ব্যক্তির বিচার করা যাবে না৷
নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট আইনে নির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে যে নির্দিষ্ট শাস্তির কথা বলা আছে, পরে কোনও আইন এনে সেই শাস্তির মেয়াদ বাড়ানো যাবে না৷অর্থাত্‍ ফৌজদারি আইনের ক্ষেত্রে রেট্রোস্পেকটিভ এফেক্ট দেওয়া সম্ভব নয় বলেই মত বিশেষজ্ঞদের৷ যদিও, মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, এটা আর্থিক বিল৷
কিন্তু, প্রশ্ন উঠছে, এটা আর্থিক বিল না আর্থিক অপরাধ সংক্রান্ত বিল? যেখানে অপরাধের সংজ্ঞা এবং শাস্তির মেয়াদ বলা থাকবে৷ অর্থাত্‍ চিট ফান্ডে আমানতকারীদের স্বার্থরক্ষা সংক্রান্ত বিলে রেট্রোস্পেকটিভ এফেক্ট দেওয়া হলে, সেক্ষেত্রে আদালতে তাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে বলেই মনে করছেন আইনজ্ঞরা৷

http://www.abpananda.newsbullet.in/state/34-more/36093-2013-04-27-04-16-44


থানার লক আপে খাবার খাচ্ছেন না দেবযানী মুখোপাধ্যায়। সারদাকাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত দেবযানী। থানায় সর্বক্ষণ চিকিত্‍সক রাখার পরিকল্পনা। গতকাল প্রাতরাশের পর থেকে আর কিছুই খাননি দেবযানী। ৩৬ ঘণ্টায় চা ছাড়া সারাদা কাণ্ডের অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত কিছুই খাননি বলে খবর।

এদিন সকাল থেকেই ফের জেরা করা হয় সারদা কর্ণধার সুদীপ্ত সেন এবং দেবযানী মুখোপাধ্যায়কে। জেরার আগে বিধাননগর নিউটাউন থানায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে সুদীপ্ত সেন ও দেবযানী মুখোপাধ্যায়ের। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরেই জেরা শুরু করে পুলিস।

আজ সুদীপ্ত সেন ও দেবযানী মুখোপাধ্যায়কে একসঙ্গে রেখেই জেরা করা  হবে বলে পুলিস সূত্রের খবর। গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত দু`জনকেই আলাদা আলাদা করে জেরা করা হয়। পুলিস সূত্রের খবর সারদা কর্তা ও দেবযানীর বয়ানের মধ্যে  কোনও অসঙ্গতি থাকছে কিনা, অসঙ্গতি থাকলে কোন কোন ক্ষেত্রে অসঙ্গতি রয়েছে সেই সব জায়গা  খুঁজে বের করার চেষ্টা হচ্ছে। 

পরবর্তী পর্যায়ে দু`জনকেই একসঙ্গে বসিয়ে জেরা করা হবে বলে জানা গেছে। যে যে জায়গায় অসঙ্গতি রয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন করা হবে ধৃতদের। অন্যদিকে ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানাতে সারদা কাণ্ডে ধৃত আরও দুই অভিযুক্ত মনোজ নাগেল ও অরবিন্দ সিং চৌহানকে গতকাল রাতে জেরা করে পুলিস।


কলকাতা পুরসভার ১০৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিভিন্ন এলাকায় টাঙানো হয়েছে কুরুচিকর ব্যঙ্গচিত্রের ব্যানার। ব্যঙ্গচিত্রে প্রদেশ কংগ্রেস  সভাপতিকে `দৈত্য`,  রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মীরা পাণ্ডেকে `চুলবুলি পাণ্ডে`, বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহার মাথায় খড়ম এবং বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে `কাপালিক` হিসাবে দেখানো হয়েছে। 

অভিযোগের তির যাদবপুরের ১০৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তথা কলকাতা পুরসভার ১১ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান তারকেশ্বর চক্রবর্তীর দিকে। এলাকার দলীয় কাউন্সিলরদের নিয়ে দিন কয়েক আগে সভা করেন তারকেশ্বর চক্রবর্তী। সেই সভার আগেই টাঙানো হয় এই ব্যঙ্গচিত্রটি। যাদবপুরের পরিবর্তনকামী জনগণের তরফে ব্যঙ্গচিত্রটি টাঙানো হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। 




টাওয়ার গ্রুপের সিএমডি রমেন্দু চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে বিক্ষোভ দেখালেন প্রাত্যহিক খবরের সাংবাদিকরা। আজ প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করছিলেন রমেন্দু চট্টোপাধ্যায়। সেই সময়ই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন ওই সাংবাদিকরা। 

তাদের অভিযোগ তিন মাসের মাইনে দেওয়া হয়নি। জমা পড়েনি পিএফের টাকাও। সাংবাদিদকদের অভিযোগ,  গত কাল লেনিন সরনীতে সংস্থার অফিসে গেলে তাঁদের শারীরিক হেনস্থা করা হয়। মুচিপাড়া থানায় রমেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁরা।


চিটফান্ড কেলেঙ্কারির তদন্তে প্রয়োজনে জেরা করা হতে পারে রাজনীতিকদেরও। সারদা কাণ্ডে গঠিত কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শ্যামল সেন গতকাল একথা জানান। ইতিমধ্যেই চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়েছে বেশকয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের। আগামী ছ'মাসের মধ্যেই কমিশন তদন্ত রিপোর্ট দেবে বলে জানান শ্যামল সেন। 

চিটফাণ্ড কেলেঙ্কারীতে ইতিমধ্যেই সর্বস্বান্ত রাজ্যের কয়েক লক্ষ পরিবার। বিক্ষোভ চলছে রাজ্যজুড়ে। নাম জড়িয়েছে সাংসদ, রাজনীতিক, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের। ভুইফোঁড় আর্থিক সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শ্যামল সেনের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে কমিশন। বৃহস্পতিবার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, আগামী ছয়মাসের মধ্যেই রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে রাজনৈতিকদেরও।
 
কিন্তু বেআইনি আর্থিক সংস্থারগুলির বিরুদ্ধে তদন্তের দায়িত্ব যাঁর হাতে তাঁর নামই জড়িয়েছে এমনই একটি অর্থলগ্নি সংস্থার সঙ্গে। বিভিন্ন সময়ে তিনি যে ওই সংস্থার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন তা মেনে নেন শ্যামলবাবু নিজেও।

বুধবারই এই কমিশনের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্য সরকার। কীভাবে আমানতকারীদের টাকা আত্মসাত্‍ করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখবে কমিশন। 


জমি-ফ্ল্যাট, ট্যুর প্যাকেজ, কিংবা অর্থ বিনিয়োগ। চোখ ধাঁধানো সুদের টোপকে হাতিয়ার করে রাজ্য জুড়ে প্রতারণার জাল ছড়িয়েছিল সারদা গোষ্ঠীর। সেই ফাঁদেই সর্বস্বান্ত হয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। একটি রিপোর্ট। 

কোটি কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারি। দেশ তোলপাড় করা স্ক্যামের ফাঁদে সর্বস্বান্ত রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষ। 

সারদা রিয়েলটি ইন্ডিয়া লিমিটেডের কাজকর্ম নিয়ে বামফ্রন্ট সরকারের আমলেই অনুসন্ধান শুরু করেছিল সেবি। সংস্থার ব্যবসা সংক্রান্ত বহু নথি কর্তৃপক্ষের কাছে চেয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু তথ্য দেওয়ার নামে, তিন বছর ধরে সেবিকে নানা ভাবে এড়িয়ে গেছে সারদা। 

জমি-ফ্ল্যাট, ট্যুর-প্যাকেজ থেকে স্কিমে টাকা লগ্নি। সারদার বেআইনি ব্যবসার জাল বিস্তার করেছিল সর্বত্র।
সারদার বিভিন্ন ব্যবসায় লগ্নির ক্ষেত্রেও ছিল লোভনীয় অফার।

বিভিন্ন স্কিমে টাকা দিলে মিলবে জমি-ফ্ল্যাট। স্কিমে টাকা দিলে ছিল সুদের হাতছানিও।

একেবারে স্বল্প সঞ্চয়ের বাজার ধরতে অভিনব স্কিম এনেছিল সারদা। বারো থেকে ষাট মাসের মধ্যে একশ টাকা করে জমাতে পারবেন আমানতকারী। বিনিময়ে পাবেন চোকধাঁধানো রিটার্ন।

জমি বা ফ্ল্যাটের জন্য টাকা দিলেও আমানতকারীদের সামনে ছিল লোভনীয় সব হাতছানি। ১২-২৪% হারে সুদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিত সারদা। 

কোন জমি বা ফ্ল্যাট দেওযা হবে তা আমানতকারীদের আগের থেকে বলে দেওয়া হবে না। যখন জমি দেওয়া হবে তখনই তা চিহ্নিত করতে হবে। সেই জমি বা ফ্ল্যাটের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকবে ওই সংস্থা।

এই স্কিমে ,সম্পত্তির ওপর নিয়মিত নজরদারি করতে পারবেন না বিনিয়োগকারী।
সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়েছে বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী জমির বদলে পূর্ব ঘোষিত টাকা ফেরত পেতেই বিনিয়োগ করত। 

সারদা গোষ্ঠীর বিভিন্ন বিজ্ঞাপনেও ছিল নজরকাড়া চমক। যে চমকে নিমেষেই চোখ ধাঁধাতো আমানতকারীদের। সারদার বিজ্ঞাপনে একত্রিশ জায়গায় জমির উল্লেখ ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই জমির সংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচটি। ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলসেও ছিল নানান অফার। 

নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত টাকা জমালে নির্দিষ্ট সময়ে ২৫ শতাংশ টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতি ছিল। আবার নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমালে কোনও একটি জায়গায় যাওয়ার অফার ছিল। বিনিয়োগকারীরা সেখানে না গেলে টাকা ফেরতের প্রতিশ্রতি ছিল। কিন্তু বাস্তবে কেউ সেই টাকা হাতে পেতেন না। 




এমনকি গাড়ি কারখানা বা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানাতেও ছিল কুমিরছানার গল্প। কোথাওই কোনওভাবে কখনই উদপাদন হয়নি। সব জায়গায়তেই প্রকল্প শুরুর গল্প ফাঁদা হলেও বাস্তব ছিল ঠিক তার উল্টো। এভাবেই কোটি কোটি টাকার বেআইনি জাল ছড়িয়েছে সর্বত্র।

http://zeenews.india.com/bengali/kolkata/saradah-cheating-a-special-report_13031.html


আত্মহত্যা, বিক্ষোভ-ভাঙচুর চলছেই
এই সময়: সারদা গোষ্ঠীর তিন শীর্ষকর্তা আপাতত পুলিশ হেফাজতে৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমানতকারীদের স্বার্থে ৫০০ কোটি টাকার তহবিল গড়ার কথাও ঘোষণা করেছেন ইতিমধ্যে৷ তার পরেও বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার আমানতকারী কিংবা এজেন্টদের মৃত্যুর মিছিল কিন্ত্ত থামছে না৷ বিক্ষোভ, ভাঙচুরও উত্তরোত্তর বাড়ছে৷ এজেন্ট-আমানতকারীরা মুখ্যমন্ত্রীর দান-খয়রাতির ঘোষণাকে ভালো ভাবে নিচ্ছেন না৷ বস্ত্তত, ভরসা পাচ্ছেন না তাঁরা৷ বরং এ দিনও মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির অদূরে বিক্ষোভের চেষ্টা হয়েছে৷ 

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ শহরতলির ফলতায় আমানতকারীদের তাগাদার হাত থেকে বাঁচতে বাড়িতে কীটনাশক খেয়ে দিলীপ মণ্ডল (৫৫) নামে সারদা গোষ্ঠীর এক এজেন্ট আত্মঘাতী হয়েছেন৷ এ দিনই মুর্শিদাবাদে নিউ ফরাক্কা স্টেশনের ৩ নম্বর কেবিনের কাছে রোজভ্যালি সংস্থার কর্মী সন্তোষ গুপ্তের (৪২) দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়৷ তাঁর দেহে ছিল একাধিক ক্ষতও৷ এটি আত্মহত্যা না খুন, পুলিশ সন্ধ্যা পর্যন্ত তা জানাতে পারেনি৷ তবে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে তাঁর৷ 

এর পাশাপাশি সারদা-সহ বিভিন্ন বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থার অফিসে বিক্ষোভ, ভাঙচুরের ঘটনাও সমানে চলছে৷ খোদ কলকাতাতেও একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে৷ পুলিশের সঙ্গে রীতিমতো ধস্তাধস্তিও চলেছে৷ তার উপর এ দিন নতুন একটি উপসর্গও দেখা দিয়েছে৷ বেশ কিছু জায়গায় ক্ষুব্ধ আমানতকারী এবং এজেন্টরা সংবাদমাধ্যমের উপরেও চড়াও হচ্ছেন৷ কোথাও আবার সংস্থার কর্মী এবং পোষা গুন্ডারাও সাংবাদিকদের মারধর করছে৷ এরই মধ্যে বিভিন্ন অর্থলগ্নি সংস্থার বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান এবং ধরপাকড়ও অবশ্য জারি রয়েছে৷ আমানতকারীদের অভিযোগের ভিত্তিতেই এ দিন টালিগঞ্জে এইচ পি ফিনান্স অ্যান্ড ট্রেনিং সংস্থার কর্তা তপন সাহাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে৷ কাকদ্বীপ থেকে আইডল ইন্ডিয়া মাল্টি সার্ভিস লিমিটেড নামে এক অর্থলগ্নি সংস্থার ম্যানেজার অনিমেষ ঘটককেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে৷ সারদা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও এ দিন লেক এবং পার্ক স্ট্রিট থানায় নতুন করে দুটি এফআইআর দায়ের হয়েছে৷ 

সারদার সুদীপ্ত সেনের মতোই অ্যানেক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইন্ডিয়া লিমিটেডের মালিক এবং ডিরেক্টর প্রসেনজিত্‍ মজুমদারের ১৪ দিন পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ হয়েছে৷ বুধবার রাতে তাঁকে শ্যামনগর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ৷ এ দিন তাঁকে ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করা হয়৷ পুলিশ জানিয়েছে, রাজ্যের সাত জেলায় অ্যানেক্সের নামে ১১৭৮ বিঘা জমি রয়েছে৷ আমানতকারীর সংখ্যা প্রায় তিন হাজার৷ আদতে জলপাইগুড়ির ভক্তনগরের বাসিন্দা প্রসেনজিত্‍ ব্যবসায় মন্দা চলায় সুদীপ্তর মতোই পালানোর চেষ্টা করছিলেন বলে দাবি পুলিশের৷ একটি ভিআইপি সুটকেসে নগদ ৭২ লক্ষ টাকা নিয়ে তিনি শ্যামনগরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে এসেছিলেন৷ সেখানেই পাকড়াও করা হয় তাঁকে৷ এ দিন আদালত চত্বরেও তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান আমানতকারীরা৷ 

ফলতার বাসিন্দা দিলীপবাবু গত কয়েক বছর ধরে সারদার এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন৷ এলাকার বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে তিনি কয়েক লক্ষ টাকা তুলেছিলেন৷ কিন্তু কাউকে টাকা ফেরত দিতে পারেননি৷ তাঁরা বাড়িতে এসে তাগাদা দিচ্ছিলেন৷ এদিনও সকালে কয়েক জন আমানতকারী তাঁর বাড়িতে এসে চিত্‍কার-চেঁচামেচি শুরু করেন৷ কিন্তু তাঁর ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল৷ খবর পেয়ে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে দিলীপবাবুর দেহ উদ্ধার করে৷ মালদহের বাবুপাড়ার বাসিন্দা সন্তোষবাবু ফরাক্কায় রোজভ্যালির অফিসের কর্মী ছিলেন৷ তিনি ট্রেনে যাতায়াত করতেন৷ বুধবার সন্ধ্যায় তিনি অন্য দিনের মতোই অফিস থেকে বেরিয়ে যান বলে সহকর্মীরা জানিয়েছেন৷ এ দিন সকালে তাঁর দেহ রেললাইনের ধারে পড়ে থাকতে দেখা যায়৷ পরিচিতরা জানান, সারদার ঘটনার পর থেকেই তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন৷ 

বস্তুত, সারদা-কাণ্ডের পর এ জাতীয় অন্য সংস্থাগুলির আমানতকারী-এজেন্টরাও সমান আতঙ্কিত৷ তার সূত্রেই সুরাহা মাইক্রো-ফিনান্স লিমিটেড নামে একটি সংস্থার প্রায় দেড়শো আমানতকারী এ দিন বউবাজারে ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার সামনে রাস্তা অবরোধ করেন৷ তাঁদের মধ্যে অনেক মহিলাও ছিলেন৷ অভিযোগ, পুরুষ পুলিশকর্মীরা মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন৷ পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তিও হয়৷ সেখান থেকে পুলিশ ৭ জনকে গ্রেপ্তারও করেছে৷ হাজরা মোড়েও এই সংস্থার কয়েকশো আমানতকারী টাকা ফেরতের দাবিতে জড়ো হয়ে কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন৷ 

ডায়মন্ড হারবারে টাওয়ার গ্রুপের একটি অফিসের সামনেও আমানতকারীরা টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান৷ তাঁরা এক সময় ভিতরে ঢুকে ভাঙচুরও চালান৷ বাধা দিতে গেলে সেখানকার কর্মীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায়৷ এই সময়ে সাংবাদিকরাও সংস্থার কর্মী এবং দুষ্কতীদের হাতে মার খান৷ আমানতকারীদের অভিযোগ, টাওয়ারের এজেন্টরা কয়েকশো কোটি টাকা তুলেছেন৷ কিন্তু ফেরত দেওয়ার কোনও নামই নেই৷ পুলিশও কোনও অভিযোগ নিতে চাইছে না৷ ক্যানিংয়ে সানমার্গ সংস্থার অফিসেও এজেন্ট এবং আমানতকারীরা ভাঙচুর চালান৷ পরে উত্তেজিত লোকজন বারুইপুর-ক্যানিং রোড অবরোধ করেন৷ তাঁদের দাবি, সংস্থার পলাতক ডিরেক্টর দিলীপরঞ্জন নাথকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে৷ জয়নগরের দক্ষিণ বারাসতে সারদা সংস্থার বন্ধ অফিসের সামনেও হাজার খানেক এজেন্ট বিক্ষোভ দেখান৷ পরে টাকা ফেরতের দাবিতে কুলপি রোড অবরোধ করেন তাঁরা৷ নদিয়ার নবদ্বীপে সারদার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার অপূর্ব নাথ এবং ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার মানস ভট্টাচার্যের নামে এক আমানতকারী এফআইআর করেছেন৷ টাকা ফেরতের দাবিতে সারদার প্রায় এক হাজার এজেন্ট মিছিল করেছেন বহরমপুর শহরেও৷ 


পরিকল্পনামাফিকই আমানতকারীদের টাকা আত্মসাত করে আত্মগোপনের ছক কষেছিলেন সারদা গ্রুপ অফ কোম্পানিজের মালিক সুদীপ্ত সেন৷ আত্মগোপন পর্বে সপার্ষদ ঘুরে বেড়িয়েছিলেন ৭ রাজ্যের ১৫ টি জায়গায়৷ দেশের বাইরে নেপালেও পাড়ি জমিয়েছিলেন সারদাকাণ্ডের মূল রূপকার৷ গত ৪৮ ঘণ্টায় সুদীপ্ত সেনদের জেরা করে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি গোয়েন্দাদের৷


গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ১০ এপ্রিল কলকাতা ছাড়েন সুদীপ্ত সেন৷ রওনা হন দিল্লির উদ্দেশে৷ দিল্লিতেই ছিলেন অরবিন্দকুমার চহ্বণ৷ সেখানে পৌঁছেই তৈরি হয় গা ঢাকা দেওয়ার চূড়ান্ত পরিকল্পনা৷ সেই মতো ১৩ তারিখ সকালে, অরবিন্দের ল্যাপটপ থেকে ট্র্যাভেল এজেন্সি মারফত্‍ কলকাতা থেকে দিল্লিগামী বিমানের টিকিট টাকা হয়৷ সেই টিকিটের পিএনআর নম্বর পাঠিয়ে দেওয়া হয় দেবযানীর মোবাইলে৷ ওই দিনই বিমানে দিল্লি পৌঁছন সেন স্যরের ছায়া সঙ্গী দেবযানী৷ দিল্লির বিকাশপুরী এলাকায় কোহিনুর গেস্ট হাউসে রাত কাটান তাঁরা৷ ১৪ তারিখ ভোরেই গাড়ি করে সোজা দেরাদুন৷ সেখানে অমৃত্‍ রিজেন্সি হোটেলে ওঠেন সুদীপ্তরা৷ একরাত কাটিয়ে ফের বেরিয়ে পড়েন৷ ১৫ তারিখ হরিদ্বার পৌঁছন৷ ঠিকানা পার্ক ভিউ হোটেল৷ ১৬ তারিখ ভোর ৪টে নাগাদ রওনা জিম করবেট ন্যাশনাল পার্কের উদ্দেশে৷ কিন্তু, ওখানে রাতে থাকতে চাননি সুদীপ্ত সেন৷ তাই, ওই রাতেই চলে আসেন হলদোয়ানিতে৷ রাতটা সেখানে কাটিয়ে, ১৭ তারিখ ভোরে চলে যান উত্তরাখণ্ডের টনকপুরে৷ 
শুধু দেশের মধ্যেই নয়, আত্মগোপন পর্বে দেশের বাইরেও পাড়ি দিয়েছিলেন সুদীপ্ত, দেবযানীরা৷ ১৭ তারিখই উত্তরাখণ্ড থেকে গাড়ি করে সোজা নেপাল চলে যান সুদীপ্ত সেন৷ ধনগিরির রুবুস হোটেলে ঘাঁটি গেড়েছিলেন সুদীপ্ত, দেবযানী এবং অরবিন্দ৷ 
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ওই দিন রাতেই এসটিডি বুথ থেকে কলকাতায় তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেন সুদীপ্ত সেন৷ পরের দিন কাঠমান্ডু যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও গভীর রাতে ভারতের উদ্দেশেই রওনা হন তাঁরা৷ 
১৮ তারিখ ভোরে তাঁরা পৌঁছন উত্তরপ্রদেশের রুদ্রপুরে৷ সেখানে কিছুক্ষণ কাটিয়ে চলে যান হরিয়ানার সোনিপথে৷ 
সোনিপথে একটি ধাবায় খেতে নামেন সুদীপ্ত সেনরা৷ ধাবার পাশেই একটি ক্যাফে ছিল৷ গোয়েন্দা সূত্রে খবর, কিছুক্ষণের জন্য একাই সেই ক্যাফেতে যান দেবযানী৷ ক্যাফে থেকে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে চণ্ডীগড় থেকে ভায়া দিল্লি কলকাতার বিমানের টিকিট কাটেন দেবযানী৷ টিকিটটি ছিল ২২ তারিখের৷ 
সোনিপথ থেকে উত্তরপ্রদেশের কিরটপুরের উদ্দেশে রওনা হন তাঁরা৷ ১৮ তারিখ রাতটা সেখানেই থাকেন৷ ১৯ তারিখ চলে যান মধ্যপ্রদেশের বিলাসপুরে৷ সেখান থেকে হিমাচল প্রদেশের সুন্দরনগর৷ প্রথমে সুন্দরনগরে একটি হোটেলে ওঠেন তাঁরা৷ কিন্তু, হঠাতই সুদীপ্ত বলেন, এখানে থাকা যাবে না৷ সেন স্যরের মর্জি মতোই গাড়ি করে সোজা কুলু৷ কুলুর ওরচার্ড রিসর্টে ওঠেন তাঁরা৷পরিকল্পনা ছিল, ২০ তারিখ মানালি যাবেন তাঁরা৷ পরে লে লাদাখ৷ কিন্তু, তুষারপাতের জন্য সে পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়৷ 
২০ তারিখই জম্মু-কাশ্মীরের উধমপুর চলে যান তাঁরা৷ রাতটা সেখানে কাটিয়ে ২১ তারিখ গাড়ি করেই ভায়া শ্রীনগর সোনমার্গ পৌঁছন সারদা কর্ণধার এবং তাঁর সঙ্গীরা৷ সেখানে স্নো ল্যান্ড রিসর্টে ওঠেন তাঁরা৷ ২১ এবং ২২ তারিখ এখানেই থাকেন৷ 
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ২২ তারিখ সন্ধেয় স্থানীয় একটি ধাবায় খেতে গিয়েছিলেন সুদীপ্তরা৷ সেখানেই এক ওয়েটারকে ২০০ টাকা দিয়ে তাঁর মোবাইল থেকে কলকাতায় আইনজীবীকে ফোন করেন দেবযানী৷ আত্মসমর্পণের কথা বলেন৷ ওই দিন রাতেই হোটেলের এক কর্মীর মোবাইল থেকে ফের আইনজীবীকে ফোন করেন দেবযানী৷ পরের দিনই অবশ্য তাঁদের গ্রেফতার করে পুলিশ৷ 
গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, আত্মগোপনের পরিকল্পনাটি আগাগোড়াই সুদীপ্ত সেনের৷ তবে, বুকিং-এর দায়িত্বে ছিলেন অরবিন্দ৷ আমানতকারীদের টাকা আত্মসাত করে পলায়ন পর্বে চূড়ান্ত গোপনীয়তা রক্ষার জন্যই বারবার জায়গা বদল করেছিলেন সেন স্যর৷ 
জেরায় উঠে আসা একের পর তথ্য বিচার করেই সুদীপ্ত সেনদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারা ১২০ বি এনেছেন তদন্তকারীরা৷ 

http://www.abpananda.newsbullet.in/state/34-more/36104-2013-04-27-12-07-58


সারদাকে কোম্পানি বেচতে প্রভাবিত করেছিলেন শুভাপ্রসন্ন

নিজের মালিকানাধীন ঋণগ্রস্ত একটি সংস্থা বিপুল টাকায় সারদা গোষ্ঠীকে কিনে নিতে বাধ্য করেছিলেন চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন। এমনই অভিযোগ উঠেছে শিল্পীর বিরুদ্ধে। ২০০৯ সালে দেবকৃপা নামে একটি সংস্থা কেনেন  শুভাপ্রসন্ন। কিন্তু মাস কয়েকের মধ্যেই কার্যত নিলামে ওঠার দশা হয় ওই সংস্থার। অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কয়েক কোটি টাকায়  সারদা গোষ্ঠীকে সেই সংস্থা বিক্রি করেন শুভাপ্রসন্ন। 

সিবিআইকে লেখা চিঠিতে সারদা কর্ণধার সুদীপ্ত সেন অভিযোগ করেছিলেন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আর্থিকভাবে দুর্বল সংস্থা তাঁকে কিনতে বাধ্য করেছিলেন তৃণমূলের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা। এবার অভিযুক্ত ব্যক্তিত্বদের তালিকায় উঠে এল চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্নর নামও।
 
তথ্য বলছে, ২০০৯ সালে দেবকৃপা নামে একটি সংস্থা কেনেন শুভাপ্রসন্ন। সংস্থার ডিরেক্টর ছিলেন তিনি ও তাঁর মেয়ে জোনাকি ভট্টাচার্য। বাজার থেকে দেদার টাকা ঋণও নেওয়া হয় সংস্থার তরফে। চ্যানেল গড়ার জন্য প্রস্তুতি নেয় সংস্থা। প্রথম দফায় যুক্ত ছিলেন তৃণমূল নেত্রী দোলা সেনও। অভিযোগ, পরে প্রকল্প থেকে  তিনি নিজেকে সরিয়ে নিলে বিপুল ঋণের বোঝা চাপে শুভাপ্রসন্নর ওপর। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন তৃণমূল ঘনিষ্ঠ এই চিত্রশিল্পী। দুহাজার বারো সালে প্রায় সাড়ে ছ কোটি টাকায় কার্যত অচল এই সংস্থা কিনে নেয় সারদা গোষ্ঠী। কিন্তু প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া এই সংস্থা সারদা কিনল কেন? উঠছে সে প্রশ্ন। 
 
সুদীপ্ত সেনের অভিযোগই কি তাহলে সত্যি? সাধারণ মানুষের টাকায় তৃণমূলের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে খুশি করতেই কী অলাভজনক সংস্থায় বিনিয়োগ করতে বাধ্য হন সারদা গোষ্ঠীর কর্ণধার।

http://zeenews.india.com/bengali/kolkata/subhaprasanna_13011.html


সারদা-কাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে গত কয়েক দিন ধরে সংস্থার প্রাক্তন গ্রুপ মিডিয়া সিইও তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কুণাল ঘোষের নাম আলোচনার শীর্ষে।গতকাল টেলিভিশন চ্যানেল 'চ্যানেল টেনে'র কর্মীদের মামলা দায়েরের পর ফের তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হল৷ গতকাল রাতে ভবানীপুর থানায় কুণাল ঘোষ ও সারদা গোষ্ঠীর কর্ণধার সুদীপ্ত সেনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন দৈনিক সংবাদপত্র সকালবেলার কর্মীরা৷ এদিকে, সংবাদমাধ্যম  চ্যানেল ১০, সকালবেলা, বেঙ্গল পোস্টের পর এবার 'প্রাত্যহিক খবর'-এও সারদাকাণ্ডের ঝড় আছড়ে পড়ল ৷ যেখানে নিজেদেরই সংবাদপত্রের কর্মচারীদের বিক্ষোভের মুখে টাওয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান৷

 অন্যদিকে, শনিবার সকালে ভবানীপুর থানায় কুণাল ঘোষ ও সারদার কর্ণধার সুদীপ্ত সেনের বিরুদ্ধে দু'টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন দৈনিক সংবাদপত্র 'সকালবেলা' ও 'বেঙ্গল পোস্ট'-এর কর্মীরা৷ একটি অভিযোগ করেছেন একজন কর্মী৷ দ্বিতীয় অভিযোগে সই করেছেন ২৫ জন৷ তাঁদের অভিযোগ, গত কয়েকমাস ধরে তাঁরা বেতন পাচ্ছেন না৷ পিএফ অ্যাকাউন্টেও কোনও টাকা জমা পড়েনি৷ এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২০, ৪০৬, ১২০বি, ৪১৮, ৪২১ ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ৷ এর মধ্যে ৪২০ এবং ১২০ বি- এই দু'টি ধারা জামিন অযোগ্য৷ 
পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে৷ তবে, যাঁরা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের পরিচয়ও নিশ্চিত করা হবে৷ এদিকে, বৃহস্পতিবারও চ্যানেল ১০-এর ২১ জন কর্মী সুদীপ্ত সেন, কুণাল ঘোষ এবং সারদা মিডিয়ার ভাইস চেয়ারম্যান সোমনাথ দত্ত-সহ ৮ জনের বিরুদ্ধে পার্ক স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন৷ তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হুমকি, প্রতারণা এবং বিশ্বাসভঙ্গ-সহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে৷ 
অন্যদিকে, বিক্ষোভ থেকে রেহাই পেল না টাওয়ার গ্রুপও৷ সারদাকাণ্ড-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন গ্রুপের চেয়ারম্যান রামেন্দু চট্টোপাধ্যায়৷ 
কিন্তু, সাংবাদিক বৈঠক চলাকালীনই উত্তাল হয়ে ওঠে পরিস্থিতি৷ চেয়ারম্যানকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন টাওয়ার গ্রুপেরই সংবাদপত্র 'প্রাত্যহিক খবর'-এর কর্মচারীরা৷ 
কর্মচারীদের অভিযোগ, ৩ মাস ধরে বেতন নেই৷ অফিসে গেলে জুটছে দুর্বব্যহার ও শারীরিক নিগ্রহ৷ গত ২২ তারিখ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে বউবাজার থানায়৷ শুক্রবারও দায়ের হয়েছে একটি অভিযোগ৷ 
অবশেষে টাওয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান, ৩০ তারিখ আলোচনায় বসার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভ তুলে ফিরে যান কর্মীরা৷ 

http://www.abpananda.newsbullet.in/state/34-more/36096-2013-04-27-07-24-10


ব্রিগেড সমাবেশের ডাক দেন সুদীপ্ত- ২৪ ঘণ্টা এক্সক্লুসিভ

চব্বিশ ঘণ্টার হাতে চাঞ্চল্যকর ফুটেজ। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের বছর খানেক আগে ব্রিগেডে এক সমাবেশের কথা ঘোষণা করেন সারদা-কর্তা সুদীপ্ত সেন। এরাজ্যে পরিবর্তনের পথে নাকি টাকা ঢেলেছিলেন সুদীপ্ত। সেই কথাতে কি ছিল তারই ইঙ্গিত? দেখুন চব্বিশ ঘণ্টার এক্সক্লুসিভ খবর। সেই এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন এখানে

সারদা কেলেঙ্কারিতে একের পর এক নেতা-মন্ত্রীর নাম জড়ানোর পর, শাসক-সারদার ঘনিষ্ঠতার ছবিটা অনেকটাই স্পষ্ট। এরই মধ্যে সামনে এলো সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে ২০১০ সালে সারদা একটি অনুষ্ঠানের ভিডিও ফুটেজ। যে অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে কর্মীদের উদ্দেশে সারদার কর্ণধার সুদীপ্ত সেনের চাঞ্চল্যকর ঘোষণা--২০১২ সালে ব্রিগেডে সমাবেশ করতে চান তাঁরা। 

 
এখানেই শেষ নয়। ব্রিগেডের জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি কী বলতে চান, সে বার্তাও দিয়েছিলেন সুদীপ্ত সেন। ইতিমধ্যেই অসমে সরকার ভাঙার পিছনে সারদার টাকার খেলা ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। সারদাকাণ্ডে নাম জড়িয়েছে অসমের বিরোধী দলের নেতাদের। এ রাজ্যেও উঠছে শাসক-সারদার যোগসাজশের অভিযোগ। এরই মধ্যে সুদীপ্ত সেনের এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণার পিছনে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজ্যের পালাবদলের দিকে তাকিয়েই কি সেদিন রাজনৈতিক বার্তা দিতে ব্রিগেডে সমাবেশ করার কথা ঘোষণা করেন সুদীপ্ত সেন? 

২০১১ সালের ঠিক আগের বছরে সারদা কর্তার এই বক্তব্য অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ। বিধানসভা নির্বাচনে সারদার টাকা ব্যবহারের অভিযোগ উঠছে। সুদীপ্ত সেনের এমন ঘোষণা সেই অভিযোগকে আরও জোরাল করছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। 


গতকাল গভীর রাতের পর আজ ফের জেরা করা হবে সারদা কর্ণধার সুদীপ্ত সেন এবং দেবযানী মুখোপাধ্যায়কে। জেরার আগে বিধাননগর নিউটাউন থানায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে সুদীপ্ত সেন ও দেবযানী মুখোপাধ্যায়ের। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরেই জেরা শুরু করেবে পুলিস।

আজ সুদীপ্ত সেন ও দেবযানী মুখোপাধ্যায়কে একসঙ্গে রেখেই জেরা করা  হবে বলে পুলিস সূত্রের খবর। গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত দু`জনকেই আলাদা আলাদা করে জেরা করা হয়। পুলিস সূত্রের খবর সারদা কর্তা ও দেবযানীর বয়ানের মধ্যে  কোনও অসঙ্গতি থাকছে কিনা, অসঙ্গতি থাকলে কোন কোন ক্ষেত্রে অসঙ্গতি রয়েছে সেই সব জায়গা  খুঁজে বের করার চেষ্টা হচ্ছে। পরবর্তী পর্যায়ে দু`জনকেই একসঙ্গে বসিয়ে জেরা করা হবে বলে জানা গেছে। যে যে জায়গায় অসঙ্গতি রয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন করা হবে ধৃতদের। অন্যদিকে ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানাতে সারদা কাণ্ডে ধৃত আরও দুই অভিযুক্ত মনোজ নাগেল ও অরবিন্দ সিং চৌহানকে গতকাল রাতে জেরা করে পুলিস।


সারদা কেলেঙ্কারিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন গনিখান চৌধুরীর ভাই আবু নাসের খান চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, সারদা গোষ্ঠীর বিরোধিতা করে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন তাঁর দাদা, কংগ্রেস সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী।  সেই চিঠি বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  

রাজ্যের বৃহত্তম আর্থিক কেলেঙ্কারির কথা প্রকাশ্যে আসার সাতদিন পর প্রথমবার সাংবাদিকদের সামনে এসে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন সারদার প্রতারণার কথা তিনি বা তাঁর সরকার জানত না।
 
কংগ্রেস সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরি এগারোই সেপ্টেম্বর দুহাজার এগারোয় প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে সারদার নামে নালিশ করেছেন সেটা বিলক্ষণ জানতেন মুখ্যমন্ত্রী। আবু হাসেমের ভাই আবু নাসের খান চৌধুরী তো তেমনই জানাচ্ছেন।আবি হাসেমকে সারদার ব্যাপারে মত বদলানোর অনুরোধও নাকি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০১১-র ১১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীকে লেখা সেই চিঠি নিয়েই কংগ্রেসের বিরোধীতায় নেমেছে তৃণমূল। সরকার যে অনেক আগেই সারদার প্রতারণার কথা জানত শুক্রবার প্রকাশ্যে সেটা বলে ফেলেছেন শিল্পমন্ত্রীও।

স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে কেন সারদার প্রতারণার কথা আগে জানা ছিলনা বলে মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী।


রাজনীতির অঙ্ক আর অর্থের সঙ্কটে কেন্দ্রকে চাপ মুখ্যমন্ত্রীর
সারদা-কাণ্ডে প্রতারিতদের ক্ষতিপূরণের দায় কেন্দ্রের কাঁধেও চাপাতে চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার রাজ্যের তরফে ৫০০ কোটি টাকার তহবিল তৈরির কথা ঘোষণা করার পরে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "কেন্দ্র এ সবের দায়িত্ব এড়াতে পারে না। তাই কেন্দ্রও টাকা ফেরত দিক। আমি কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলব। টাকা ফেরত চাইব।" তাঁর যুক্তি, "যে হেতু সেবি, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া এবং রেজিস্ট্রার অফ কোম্পানিজ এদের অনুমোদন দেয়, তাই এদেরই দেখার কথা। এরা দেখেনি কেন? তাই কেন্দ্র এ সবের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না।" 
মমতা মূলত দু'টি কারণে সারদা-কাণ্ডের সঙ্গে কেন্দ্রকে যুক্ত করতে চাইছেন বলে মনে করছে প্রশাসনের একাংশ। প্রথমত, এই ঘটনায় যে ভাবে তৃণমূলের নাম জড়িয়ে গিয়েছে তা থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা। এবং দ্বিতীয়ত, ৫০০ কোটি টাকায় বিপুল সংখ্যক প্রতারিতের ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব নয় বুঝে আরও টাকা জোগাড় করার প্রয়াস। 
শীর্ষ নেতারা জোর গলায় অস্বীকার করলেও সারদা কেলেঙ্কারির সঙ্গে তৃণমূলের যোগাযোগের বিষয়টি যে জনমানসে ছাপ ফেলেছে, তা কবুল করছেন দলের নিচুস্তরের বহু নেতাই। পঞ্চায়েত ভোটের মুখে এই ঘটনায় গ্রামাঞ্চলের তৃণমূল নেতারা স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বিগ্ন। এহেন পরিস্থিতিতে লক্ষ লক্ষ প্রতারিত আমানতকারী যখন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সুরাহা দাবি করছেন, তখন তাঁদের কার্যত হতাশ করে তিনি গোড়ায় বলেছিলেন, 'যা গেছে তা গেছে'। এই মন্তব্য আরও বড় রাজনৈতিক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে বলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তৃণমূল নেতারা। পরিস্থিতি সামলাতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই অবস্থান পাল্টে তহবিল গড়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। 
কিন্তু সারদা-কাণ্ডের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই উঠে আসছে তৃণমূল নেতাদের নাম। বৃহস্পতিবারই শাসক দলের এক সাংসদের নামে পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তৃণমূলের যোগাযোগ নিয়ে প্রচারও শুরু করে দিয়েছে বিরোধী সিপিএম এবং কংগ্রেস। সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি এ দিন বলেছেন, "সারদা কেলেঙ্কারিতে চিট ফান্ড মালিকদের সঙ্গে তৃণমূলের নেতাদের যোগাযোগ প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে।" সে জন্য সিবিআই তদন্তের দাবিতেও সরব হয়েছে বাম-কংগ্রেস।
সারদা-কাণ্ডে রাজ্য সরকারের ভূমিকার প্রতিবাদে কংগ্রেসের
বিক্ষোভ। শুক্রবার শিলিগুড়িতে। ছবি: বিশ্বরূপ বসাক।
মুখ্যমন্ত্রীর এ দিনের দাবি বিরোধীদের এই প্রচার ঠেকানোর একটা চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে এ দিন লোকসভাতেও সরব হয়েছে তৃণমূল। আবার দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায় এবং রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর নেতৃত্বে কলেজ স্কোয়্যার থেকে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ পর্যন্ত মিছিলও করেছে তারা। কেন্দ্র এবং আগের বামফ্রন্ট সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ভুঁইফোঁড় অর্থলগ্নি সংস্থাগুলির রমরমা হয়েছে, এই অভিযোগ জানিয়ে আজ, শনিবার শিয়ালদহ থেকে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ পর্যন্ত মিছিল করবে তৃণমূল সেবা দল। 
তবে শুধু রাজনৈতিক কারণেই নয়, আর্থিক কারণেও মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রকে এই কেলেঙ্কারিতে জড়াতে চেয়েছেন বলে প্রশাসনের একাংশের মত। কারণ, তহবিলের ৫০০ কোটি টাকা কোথা থেকে আসবে, তার হদিশ এখনও দিতে পারেননি মমতা। তহবিল ঘোষণার দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, "১৫০ কোটি টাকা আমরা (সিগারেটের উপরে) কর থেকে পেয়ে যাব। বাকি টাকা কোথা থেকে আসবে, তা এখনই বলছি না।" সারদার সম্পত্তি বেচেও প্রয়োজনীয় টাকা উঠবে না বলেই প্রশাসনের আশঙ্কা। তা হলে সরকার কী করবে? এক কর্তার কথায়, "মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বারবার বলছেন, সরকারের টাকা নেই। এই অবস্থায় বাড়তি ৩৫০ কোটি টাকা কোথা থেকে আসবে! সেই টাকা যাতে কেন্দ্রীয় সাহায্য থেকে জোগাড় করা যায়, সে জন্যই দিল্লির দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।" 
তা ছাড়া, অন্য ভুঁইফোঁড় সংস্থায় টাকা রেখে প্রতারিতরাও এ বার ক্ষতিপূরণের দাবি তুলতে শুরু করবেন বলে ওই কর্তার আশঙ্কা। তাতে মুখ্যমন্ত্রীর উপরে চাপ আরও বাড়বে। বস্তুত সেই আশঙ্কা সত্যি প্রমাণ করে ইতিমধ্যেই বীরভূম এবং বর্ধমানে অন্য সংস্থার এজেন্টরা সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। সিউড়িতে 'সানমার্গ সুরাহা মাইক্রো ফিনান্স' নামে একটি অর্থলগ্নি সংস্থার কয়েকশো এজেন্ট আর্থিক প্যাকেজের দাবিতে ঘণ্টাখানেক পথ অবরোধ করেন। বর্ধমানের কাটোয়ায় 'অ্যানেক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইন্ডিয়া লিমিটেড' নামে একটি ভুঁইফোঁড় অর্থলগ্নি সংস্থার এজেন্টরাও একই দাবি জানিয়েছেন। এই বাড়তি চাপের মুখে টাকার জন্য কেন্দ্রের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া মুখ্যমন্ত্রীর গত্যন্তর নেই বলেই প্রশাসনের বড় অংশের মত।
সিবিআই তদন্ত: এই ঘটনা নিয়ে বেশ কয়েকটি তদন্ত চলছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, যাঁরা সর্বস্বান্ত হয়েছেন তাঁদের কিছু টাকা কি ফেরত দেওয়া যাবে?
৫০০ কোটির তহবিল: যথেষ্ট নয়। কিন্তু এটা একটা বড় প্রচেষ্টা।
এম কে নারায়ণন
তবে মুখ্যমন্ত্রী দাবি জানালেও সারদা গোষ্ঠীর আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে আদৌ কোনও পদক্ষেপ করা যায় কি না, তা নিয়ে এখনও অথৈ জলে কেন্দ্র। এ নিয়ে দফায় দফায় অর্থ ও কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের বৈঠকের পরেও কোনও উপায় বের হয়নি। অর্থ মন্ত্রক সূত্রের বক্তব্য, আইন না মেনে যদি কোনও সংস্থা টাকা তোলে, তা হলে সেবি সেই সংস্থাকে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে। গত মঙ্গলবারই সেবি সারদা রিয়েলটিকে তিন মাসের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। 
কিন্তু সারদা রিয়েলটি ছাড়াও সারদা গোষ্ঠীর আরও সংস্থা টাকা তুলেছে। তা ছাড়া, যে সংস্থার কর্ণধারই গ্রেফতার, সেই সংস্থা কী ভাবে টাকা ফেরত দেবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অর্থ মন্ত্রকের কর্তারা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে আদালতই ভুঁইফোঁড় সংস্থাগুলির সম্পত্তি নিলাম করে বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে সেই টাকা আমানতকারীদের দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সহারা-র ক্ষেত্রেও একই নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু সারদার ক্ষেত্রে এই দাওয়াই কতটা র্কাযকর হবে, তা নিয়ে সন্দিহান অর্থ মন্ত্রকের কর্তারা। তাঁদের ধারণা, সারদা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নিলাম করে বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে সব আমানতকারীর টাকা ফেরত দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে রাজ্য কী আইন আনছে, তা-ও দেখে নিতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। 
মুখ্যমন্ত্রীর দাবির বিরোধিতা করে অবশ্য এ দিনই সরব হয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। প্রদেশ সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, "এ রাজ্যে বাম আমল থেকেই একটা ধারা চলে আসছে। রাজ্য সরকার যখনই বিপদে পড়ে, অন্যায় করে, তখনই সেটা ঢাকার জন্য কেন্দ্রের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেয়।" সারদা-কাণ্ড নিয়ে কেন্দ্রের করণীয় খুবই কম, এই দাবি করে প্রদীপবাবু বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী কি জানেন না, ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরেই সেবি এ ধরনের বিভিন্ন সংস্থার সিইও-দের ডেকে তাদের সংশোধন করার পরামর্শ দিয়েছিল রাজ্য সরকারকে? কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক বার রাজ্যকে সতর্ক করা হয়েছে।" 
সারদা-কাণ্ড নিয়ে তৃণমূলকে বিঁধলেও কেন্দ্রের দায়বদ্ধতার প্রশ্নে অবশ্য বামেরাও সরব। ভুঁইফোঁড় আর্থিক সংস্থা অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য কেন্দ্রের হস্তক্ষেপের দাবিতে তৃণমূলের সঙ্গে বামেরাও এ দিন বারবার লোকসভা অচল করে দেয়। যদিও কেন্দ্র কী ভাবে হস্তক্ষেপ করবে, সে ব্যাপারে দু'পক্ষের মতামত ভিন্ন।


পুরনো খবর: 

http://www.anandabazar.com/27raj1.html


বললেই ইস্তফা, মমতাকে চিঠি কুণালের
সারদা-কেলেঙ্কারি ঘিরে দলের মধ্যেই ঝড়ের মুখে মুখ্যমন্ত্রীর কোর্টে বল ঠেলে দিলেন কুণাল ঘোষ। শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে ওই তৃণমূল সাংসদ বললেন, "আপনি নির্দেশ দিলে যে কোনও মুহূর্তে রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিতেও আমি প্রস্তুত।" 
সারদা-কাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে গত কয়েক দিন ধরে সংস্থার প্রাক্তন গ্রুপ মিডিয়া সিইও কুণালের নাম আলোচনার শীর্ষে। তাঁর বিরুদ্ধে 'দুষ্কৃতী নিয়ে গিয়ে ভয় দেখিয়ে' নামমাত্র টাকায় 'চ্যানেল টেন' বিক্রি করে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টির অভিযোগ করেছেন গ্রেফতার হওয়া সারদা মালিক সুদীপ্ত সেন। সিবিআই-কে লেখা সেই অভিযোগপত্র এফআইআর হিসেবে নেওয়ার আর্জিও জানিয়েছেন তিনি। সারদার আমানত প্রকল্পে কুণালের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহলে। পাশাপাশি, বৃহস্পতিবার রাতে পার্ক স্ট্রিট থানায় কুণালের বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য ধারায় অভিযোগ দায়ের করেছেন 'চ্যানেল টেন'-এর কর্মীরা এই অবস্থায় তাঁর জন্য দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে কুণালকে দল থেকে বহিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী-সহ তৃণমূলের একাধিক সাংসদ। কুণালের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেও মুখ খুলেছেন দলের অনেকে। সেই আক্রমণের মুখে শুক্রবার দলনেত্রীকে হাতে লেখা সাড়ে পাঁচ পাতার চিঠি পাঠিয়েছেন কুণাল। সারদা গোষ্ঠীতে তাঁর অবস্থান ও অধিকার নিয়ে এ যাবৎ প্রকাশ্যে তিনি যা যা বলেছেন, চিঠিতে সে সব কথাই মমতাকে জানিয়ে তিনি লিখেছেন, "আমি কখনও সারদা গোষ্ঠীর মিডিয়া ছাড়া অন্য কোনও শাখায় জড়িত ছিলাম না। অন্য কোনও ব্যবসার কোনও সেমিনার, সম্মেলন, প্রতিনিধি বৈঠকে এক দিনও যাইনি।"
'চ্যানেল টেন'-এর কর্মীরা যাঁদের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করেছেন, তাঁদের অন্যতম হলেন সারদা গোষ্ঠীর
মিডিয়া বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট সোমনাথ দত্ত। নানা সময় তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে দেখা গিয়েছে তাঁকে।
২০০৯-এর লোকসভা ভোটে শতাব্দী রায়ের হয়ে প্রচারেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। সারদা-কাণ্ডের প্রেক্ষিতে
দু'জনের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন মহল প্রশ্ন তুলছে। শতাব্দীর বক্তব্য, "উনি আমাদের পারিবারিক বন্ধু। তাঁকে
খুব ভাল করে চিনি। তিনি সারদার মিডিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। কোম্পানির নয়।" সাংসদের আরও
দাবি, সারদা গোষ্ঠীর কোনও পণ্যের কোনও বিজ্ঞাপন তিনি কখনও করেননি। —ফাইল চিত্র
চিঠিতে তাঁর আরও দাবি, "সাংসদ হিসাবে আমি কোনও ভাবে কোনও ক্ষমতা বা সম্পর্ক ব্যবহার/অপব্যবহার করিনি। নিজের অপরাধ ঢাকতে সুদীপ্ত সেন নানা চতুরতার আশ্রয় নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।" মমতাকে তিনি জানিয়েছেন, দলকে এই ঘটনায় কুৎসামূলক ভাবে জড়ানো হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য না শুনে, তৃণমূল কংগ্রেসকে একতরফা ভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। 
এর পরই তিনি লিখেছেন, "মাননীয়া নেত্রী, এই পরিস্থিতিতে যে কোনও তদন্তে সহযোগিতা করতে আমি প্রস্তুত। তদন্তের মুখোমুখি হতেও আমি প্রস্তুত।" জানিয়েছেন, যে হেতু 'বিতর্ক এবং আক্রমণ' চলছে তাই নেত্রীর নির্দেশ পেলেই তিনি রাজ্যসভার সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন। 
তবে তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগে দলীয় নেতৃত্ব যে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন না, তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। বুধবার সারদা-কাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তহবিল গঠন করার কথা ঘোষণা করার সময়ই তিনি বলেছিলেন, "এক জন সাংবাদিককে টার্গেট করে একতরফা আক্রমণ শানানো হচ্ছে। একটা চক্রান্ত চলছে। আমি এখনও বলছি, কোনও এমপি চিট ফান্ড মামলায় জড়িত হলে, তার শাস্তি হবেই।" 
এ দিন কুণালের বিরুদ্ধে 'চ্যানেল টেন'-এর কর্মীদের দায়ের করা অভিযোগকেও গুরুত্ব দিতে চাননি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায়। তিনি বলেন, "আইনগত ভাবে চ্যানেল টেন-এর মালিক তো এখনও সুদীপ্ত সেন। ও (কুণাল) তো মাইনে দিত না। কুণালের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে কী হবে? ও তো ওখানে চাকরি করত। মাইনে দেওয়ার মালিককে ধরতে হবে।"
যদিও কুণালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না-হলে আখেরে দলের ভাবমূর্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছে তৃণমূলের একটা বড় অংশ। পঞ্চায়েত ভোটের আগে সারদা-কাণ্ডের সঙ্গে দলের নাম যে ভাবে জড়িয়ে গিয়েছে তাতে তাঁরা উদ্বিগ্ন। আর কুণালের নামই যে হেতু সারদার সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত ছিল এবং তাঁর বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙুল উঠেছে, সে হেতু কুণালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই দলের ভাবমূর্তি খানিকটা মেরামত হতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা। দলীয় বৈঠকে সেই দাবি তুলেওছেন একাধিক তৃণমূল সাংসদ। দলের এক বর্ষীয়ান নেতা এ দিন বলেন, "মুখ্যমন্ত্রীকে কুণালের চিঠি লেখাটা নেহাতই লোক দেখানো। ওর যদি ইস্তফা দেওয়ারই থাকত, তা হলে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠানো উচিত ছিল।" ফলে কুণাল মুখ্যমন্ত্রীর কোর্টে বল ঠেললেও দলের অন্দরে তাঁর উপর চাপ বজায় থাকছেই। 
এ দিকে, 'চ্যানেল টেন'-এর কর্মীদের দায়ের করা অভিযোগে কুণাল ছাড়াও সারদা-কর্তা সুদীপ্ত সেন, সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট সোমনাথ দত্ত-সহ চ্যানেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত চার আধিকারিকের নাম রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ, ভয় দেখানো-সহ ৭টি ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। কুণালের মতো সোমনাথেরও দাবি, "সংস্থার কোনও নীতি নির্ধারণে আমার ভূমিকা ছিল না।" 
বকেয়া বেতন-সহ বেশ কয়েকটি দাবিতে এ দিন সকাল থেকে 'চ্যানেল টেন'-এর অফিসে বিক্ষোভ দেখান চ্যানেলের কর্মীরা। সংস্থার আধিকারিকদের ঘিরে ধরে প্রায় তিন ঘণ্টা ওই বিক্ষোভ চলে। শহরের আরও কয়েকটি স্থানেও সারদার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখায় এজেন্ট, আমানতকারী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এ দিন ভবানীপুর থানায় কুণাল ঘোষ ও সুদীপ্ত সেনদের বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ দায়ের করেন বন্ধ হয়ে যাওয়া 'বেঙ্গল পোস্ট' ও 'সকালবেলা' নামের দু'টি সংবাদপত্রের কর্মীরা। 
কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দাপ্রধান পল্লবকান্তি ঘোষ বলেন, "প্রয়োজনে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

কোটি-ক্লাব
*সব হিসেব বছরে

পুরনো খবর:
 
http://www.anandabazar.com/27raj2.html

মানবাধিকার কমিশনের হুঁশিয়ারি জলে
সতর্কবার্তায় নড়ে বসেনি কেন মহাকরণ, প্রশ্ন
সারদা গোষ্ঠীর কাজকর্ম নিয়ে মহাকরণের মাথাদের 'অজ্ঞতা'র দাবি নস্যাৎ করে দিচ্ছে রাজ্যেরই মানবাধিকার কমিশন!
সারদা-কাণ্ডের পর থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য দাবি করে আসছেন যে, ওই সংস্থার টাকা তোলার ব্যবসা সম্পর্কে তাঁরা কিছুই জানতেন না, সংস্থাটি নিছক বাড়ি-জমির ব্যবসা করে বলে তাঁরা ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু কমিশনের দাবি, সারদা গোষ্ঠী-সহ একাধিক ভুঁইফোঁড় অর্থলগ্নি সংস্থার কাজ-কারবার সম্পর্কে তারা মহাকরণকে সতর্ক করে দিয়েছিল এ মাসের গোড়াতেই। সারদা-সহ এমন পাঁচটি সংস্থার কাজকর্ম সম্পর্কে সরকার যাতে তদন্ত করিয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দেয়, সে জন্য রাজ্যের অর্থ-সচিবকে চিঠিও পাঠানো হয়েছিল। সেটা কবে?
কমিশন-সূত্রের খবর: একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তারা সুপারিশটি করেছিল গত ১৫ মার্চ। সেটি অর্থ-সচিবের কাছে পৌঁছায় কুড়ি দিন পরে, ৪ এপ্রিলে। প্রসঙ্গত, এপ্রিলের ১০ তারিখে পশ্চিমবঙ্গ ছেড়েছিলেন সারদা গোষ্ঠীর কর্ণধার সুদীপ্ত সেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের কর্তাদের প্রশ্ন: যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের সঞ্চয় আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছে, সেখানে নির্দিষ্ট কিছু সংস্থা সম্পর্কে আগাম হুঁশিয়ারি পাওয়া সত্ত্বেও অর্থ দফতর কেন নড়েচড়ে বসল না? 
এর বিশেষ সদুত্তর সরকারি তরফে মেলেনি। যা আরও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। কমিশনের এক কর্তা শুক্রবার বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রীরা দাবি করছেন, সারদার কাজকর্ম সম্পর্কে ওঁরা কিছুই জানেন না! অথচ আমরা সারদার নাম করে রাজ্যকে চিঠি দিয়েছিলাম। তা হলে চিঠিটা কোথায় গেল? ফেলে দিয়েছিল? নাকি সচিবেরা মুখ্যমন্ত্রীকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান না?"
কী বলছেন অর্থ-সচিব?
অর্থ-সচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী এ দিন প্রশ্নটি শুনে ফোন কেটে দেন। তবে অর্থ দফতরের আর এক অফিসার জানান, "চিঠি আমরা পেয়েছিলাম। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তরফে তদন্ত শুরুর সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হয়নি।" 'ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ'টি কে, তিনি তা বলতে চাননি। এ প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে রাজ্যের মুখ্যসচিব সঞ্জয় মিত্রের প্রতিক্রিয়া, "ব্যাপারটা নিয়ে আমার কোনও ধারণাই নেই!"
কমিশনই বা আচমকা সরকারকে সতর্ক করতে গেল কেন? কমিশনের যুগ্মসচিব সুজয় হালদার এ দিন জানান, গত ১৫ জানুয়ারি বারাসতের নবপল্লির বাসিন্দা জনৈক রণেন প্রধানের লেখা অভিযোগপত্র কমিশনে আসে। সঙ্গে বেশ কিছু কাগজপত্র ছিল। ওই ব্যক্তি তাতে সারদা-সহ পাঁচটি সংস্থার নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেছিলেন, ওগুলো সব চিটফান্ড, তাদের কাজকর্মে অল্প দিনের মধ্যে হাজার হাজার মানুষ বিপদে পড়তে পারেন। কমিশনের দুই সদস্য প্রাক্তন বিচারপতি নারায়ণচন্দ্র শীল ও রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব সৌরীন্দ্রনাথ রায়কে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁরা অভিযোগ যাচাই করে সেটিকে 'যথেষ্ট গুরুতর' আখ্যা দেন। চার সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত-রিপোর্ট চেয়ে অর্থ-সচিবকে চিঠি দেয় কমিশন।
সচিবের জবাব আসেনি, চিঠিও নয়। তার আগেই সারদা-কাণ্ড শোরগোল ফেলে দিয়েছে। কমিশনের একটি মহল অবশ্য বলছে, এর আগে রাজ্যের সঙ্গে একাধিক বিষয়ে কমিশনের সংঘাত বেঁধেছে। নাম না-করে কমিশনের চেয়ারম্যানের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। এর পরে কমিশনের কোনও সুপারিশ এলে তা কতটা মানা হবে, তা নিয়ে আমলারা ধন্দে রয়েছেন বলে এই মহলের অভিমত।
ফলে জলে গিয়েছে হুঁশিয়ারি-চিঠিও। আর এ হেন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এ দিন রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অশোককুমার গঙ্গোপাধ্যায়ের আক্ষেপ, "কী আর বলব! আমরা বিপদ আঁচ করেছিলাম বলেই সরকারকে সব জানানো হয়েছিল। কারণ, লক্ষ-লক্ষ গরিব মানুষের ভবিষ্যৎ এর সঙ্গে জড়িয়ে।"

http://www.anandabazar.com/27raj3.html

No comments:

Post a Comment